Showing posts with label গণিত. Show all posts
Showing posts with label গণিত. Show all posts

Nov 23, 2013



সংজ্ঞা দিয়েই শুরু করি!

অনুপাতঃ দুইটি সমজাতীয় রাশির একটি অপরটির তুলনায় কতগুণ বা কত অংশ তা একটি ভগ্নাংশ দ্বারা প্রকাশ করা যায়। এই ভগ্নাংশকে রাশি দুইটির অনুপাত বলে। রাশি দুইটি সমজাতীয় বলে অনুপাতের কোন একক নেই। (গণিত, অনুপাত ও শতকরা, ৬ষ্ঠ শ্রেনি)

শুধুমাত্র অনুপাতের বিষদ আলোচনাঃ

দুই বন্ধু। হাবু এবং ডাবু! একদিন হাবু ডাবুকে বললো, "এই ডাবু, তুই প্রতিদিন স্কুলে কত টাকা নিস রে?". ডাবু বললো, "৫ টাকা". হাবু খুশি হয়ে বললো, "আমি নেই ১০ টাকা। তোর ডাবল!"

এখানে, হাবু যখন ডাবুকে বললো, "আমি নেই ১০ টাকা। তোর ডাবল!". 'ডাবল' শব্দটি দ্বারা এখানে মূলত তারা তাদের টাকার অনুপাতকেই বুঝিয়েছে। যদিও তারা এখনো অনুপাত সম্বন্ধে কিছুই জানে না! যাই হোক, এভাবেই মূলত জীবনের অনেক ক্ষেত্রে আমরা অনুপাত ব্যবহার করে থাকি।

এবার আমরা হাবু এবং ডাবুর টাকার পরিমাণ ছকে তুলবো...

ডাবুর টাকা
হাবুর টাকা
৫
১০

ছক দেখে আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে, "হাবুর টাকা ডাবুর চাইতে বেশি এবং তা ডাবুর চাইতে ৫ টাকা বেশি। অর্থাৎ, হাবুর টাকা ডাবুর টাকার দিগুণ।"

এইযে আমরা "দিগুণ শব্দটা ব্যবহার করলাম, এটা কিন্তু অনুমান নয়। এটা অংকের একটা ভাষা।". অংক করে আমরা দেখবো, "হাবুর টাকা কীভাবে ডাবুর টাকার দিগুণ?"

  • হাবুর টাকার সাথে ডাবুর টাকার তুলনাঃ
                                                                                                                         ডাবুর টাকা
ভগ্নাংশের দ্বারা হাবুর টাকার সাথে ডাবুর টাকার তুলনা করলে ভগ্নাংশটি হবেঃ ──────
                                                                                                                         হাবুর টাকা


যেহেতু, হাবুর টাকার সাথে ডাবুর টাকার তুলনা করা হচ্ছে, তাই "ভগ্নাংশের লব" হিসেবে থাকবে "ডাবুর টাকা", কারন, আমরা ডাবুর টাকা হাবুর চাইতে কতগুন বেশি বা কম- তা বের করবো। আর, "ভগ্নাংশের হর" হিসেবে থাকবে "হাবুর টাকা", কারন, আমরা হাবুর টাকার সাথে ডাবুর টাকার তুলনা করবো।

            ডাবুর টাকা        ৫         ১
অর্থাৎ, ────── = ─── = ──
            হাবুর টাকা        ১০       ২
                                                      ১
সুতরাং, ডাবুর টাকা হাবুর টাকার ── গুণ।
                                                     ২

  • ডাবুর টাকার সাথে হাবুর টাকার তুলনাঃ

একইভাবে,
                                                                                                                         হাবুর টাকা             ১০
ভগ্নাংশের দ্বারা হাবুর টাকার সাথে ডাবুর টাকার তুলনা করলে ভগ্নাংশটি হবেঃ ──────── = ─── = ২
                                                                                                                         ডাবুর টাকা             ৫

সুতরাং, হাবুর টাকা ডাবুর টাকার ২ গুণ।

এইযে, আমরা হাবুর টাকার সাথে ডাবুর টাকা এবং ডাবুর টাকার সাথে হাবুর টাকার যেই তুলনা করলাম এটাই মূলত "অনুপাত". অর্থাৎ, আমরা বলতে পারি যে, "অনুপাত মানে একটি পরিমানের সাথে অপর একটি পরিমানের তুলনা করা।". হাবু এবং ডাবুর যেই ছকটি দেখেছিলাম, সেই ছকটির মধ্যেই যদি আমরা তুলনা করি এবং এই "তুলনা" শব্দটিকে যদি আমরা ":" এই প্রতিক দ্বারা চিহ্নিত করি, তাহলে আমরা পাই...

ডাবুর টাকা
তুলনা
হাবুর টাকা
৫
:
১০

এখানে, ":" এই চিহ্নটিই হচ্ছে সেই "অনুপাতের চিহ্ন", যাকে আমরা "ইসটু" বলি।

সুতরাং, ডাবুর টাকা : হাবুর টাকা = ৫ : ১০ = ১ : ২ (ভগ্নাংশের মত উপর-নিচে কাটাকাটি করে!)
আশা করি, ছোটদের আর বুঝতে কোন অসুবিধা হবে না। :) ।

বিঃদ্রঃ আজকের এই লেখাটি মূলত যারা "অনুপাত কি?"- জানে না, তাদের জন্য। তাই, পাকনারা ঘ্যাঙ ঘ্যাঙ না করলেই ভালো! :P

Posted on Saturday, November 23, 2013 by Unknown

No comments

Nov 22, 2013

* এই আজব প্রমাণটি 'মোঃ জাফর ইকবাল' এবং 'মোহাম্মদ কায়কোবাদ' এর "নিউরনে অনুরণন" নামক বই হতে সংকলিত *

প্রমাণঃ


16 - 36 = 25 - 45

বা, 16 - 36 + (9/2)² = 25 - 45 + (9/2)²  [উভয় পক্ষে (9/2)² যোগ করে]
বা, (4)² - {2 x 4 x (9/2)} +(9/2)² = (5)² - {2 x 5 x (9/2)} + (9/2)²
বা, {4 - (9/2)}² = {5 - (9/2)}²
বা, 4 - (9/2) = 5 - (9/2)  [বর্গমূল করে]
বা, 4=5

অতএব, ৪=৫


৪=৫ কখনোই সম্ভব নয়। তাই, অবশ্যই এই প্রমানে কোন ভুল রয়েছে। তাহলে, ভুলটি কোথায় ? আপনারা খুঁজে 
বের করুন। কারণ, গণিতের ভুল ধরার মজাই আলাদা। আর এই মজা শুধুমাত্র একজন গণিতপ্রেমিই উপলব্ধি করতে পারবেন। ভুল খুঁজে পান বা না পান, আমি এখানে ভুলটি ধরিয়ে দিচ্ছি, পরে আপনি মিলিয়ে দেখতে পারেনঃ


ভুল সংশোধন !!! সবাই লক্ষ্য করুনঃ



এই প্রমাণের আসল কাহিনীই হচ্ছে ৪র্থ লাইনে !  ৪র্থ লাইন থেকে লক্ষ্য করুন,


{4 - (9/2)}² = {5 - (9/2)}²

বা, (4 - 4.5)² = (5 - 4.5)²  [যেহেতু, 9/2=4.5]
বা, (-.5)² = (.5)²

আর আমরা জানি যে, (-x)² = x² হলে, উভয় পক্ষে বর্গমূল করা যাবে না, কারন, এইখানে উভয় পক্ষে সমজাতিয় 
চলক/ সংখ্যা। অর্থাৎ, {4 - (9/2)}² = {5 - (9/2)}² লাইনটিতে কখনোই উভয় পক্ষে বর্গমূল করা যাবে না। তাই, 

৪=৫ ও সম্ভব নয়!

Posted on Friday, November 22, 2013 by Unknown

No comments

কীভাবে কোন ক্যালকুলেটরের সাহায্য ছাড়াই দুই অংকবিশিষ্ট যেকোনো দুটি সংখ্যাকে মুখে মুখে গুণ করা যায়?



প্রথমেই দুই অংকবিশিষ্ট যেকোনো দুটি সংখ্যা নিই। যেমনঃ ১২ এবং ৩৪

আমরা এখন 12 x 34 এর মান মুখে মুখে বের করা শিখবো...


প্রথম ধাপঃ ১২ এর ১ম ও ২য় সংখ্যার সাথে ৩৪ এর ১ম ও ২য় সংখ্যার গুণফল হবে "12 x 34" এর গুণফলের ১ম এবং শেষ সংখ্যা। নিচের চিত্র হতে পরিষ্কারভাবে বুঝুন...



শেষ ধাপঃ এবার, ১২ এর ১ম সংখ্যার সাথে ৩৪ এর ২য় সংখ্যা এবং ১২ এর ২য় সংখ্যার সাথে ৩৪ এর ১ম সংখ্যা গুণ করে এদের যোগ করতে হবে। অর্থাৎ, (1x4) + (2x3)=10

এই যোগফল বসবে "12 x 34" এর গুণফলের ৩ ও ৮ এর মাঝে। কিন্তু, যোগফল যদি ১ অংকের বেশি হয়, তবে যোগফলের ২য় অংক বসবে "12 x 34" এর গুণফলের ৩ ও ৮ এর মাঝে এবং যোগফলের ১ম সংখ্যা গুণফলের ১ম সংখ্যার সাথে যোগ করতে হবে। এখানে, যোগফল ১০. অর্থাৎ, শুন্য (০) বসবে "12 x 34" এর গুণফলের ৩ ও ৮ এর মাঝে এবং ১০ এর ১ যোগ হবে গুণফলের ৩ এর সাথে। মানে, 3+1=4
নিচের চিত্রে পরিষ্কারভাবে দেয়া হল...



অতএব, নির্ণেয় গুণফল ৪০৮. বিশ্বাস না হলে ক্যালকুলেটরে গুণফলটি বের করে দেখুন!

আর একটি উদাহরণঃ

৫৯ X ৬৯ এর গুণফল নির্ণয়ঃ

5×6=30 এবং 9×9=81. তাহলে, ফলাফলঃ 30, 81

আবার, 5×9=45 এবং, 9×6=54. অতএব, 45+54=99

এখন, 30 সংখ্যাটির 0 এর সাথে 99 এর 9 যোগ হবে এবং, 81 এর 8 এর সাথে 99 এর 9 যোগ হবে। গুনফলে 81 এর 1 বসবে। এরপর, 8+9 = 17 এর 7 বসবে এবং 17 এর 1 যোগ হবে 99 এর 9 এর সাথেঃ 9+1 = 10 এর 0 বসবে এবং 10 এর 1 যোগ হবে 30 এর 3 এর সাথেঃ 3+1 = 4 ... অর্থাৎ,

0 9 9
3 0 8 1
———
4 0 7 1 (যোগ করে)

অতএব, নির্ণেয় ফলাফল = 4071

বিঃদ্রঃ  উপরের পদ্ধতি অনুসারে আপনারাও দুই অংকবিশিষ্ট যেকোনো দুটি সংখ্যাকে মুখে মুখে গুণ করে ক্যালকুলেটরের সাথে ফলাফল মিলিয়ে দেখুন। যদি কোন গুণফল না মিলে, তবে নিচের মন্তব্যে জানাতে পারেন...

Posted on Friday, November 22, 2013 by Unknown

No comments

এই লেখাটি মূলত একটি শব্দকে ঘিরে - আয়তন । সবাই জানে সবাই বোঝে, পরিবর্তনে কেউ আগ্রহী নয়, এটা ঠিক না।



সেদিন পড়াতে গিয়ে একজন ছাত্রকে (মেগানটেক ইনস্টিটিউট, মালয়েশিয়া) জিজ্ঞেস করছিল, একটা দেশ কতটুকু জায়গা জুড়ে আছে, সেটা বোঝাতে আমরা সাধারণ অর্থে যে শব্দটা ব্যাবহার করি, সেই শব্দটা আয়তন না হয়ে ক্ষেত্রফল হওয়া উচিত কিনা। উত্তরটা হলো হ্যাঁ।

একটা দ্বিমাত্রিক বস্তু যতটুকু জায়গা দখল করে সেটা তার ক্ষেত্রফল (Area), আর ত্রিমাত্রিক বস্তু যতটুকু জায়গা দখল করে সেটা তার আয়তন (Volume) । আমরা যদি চিন্তা করতাম, একটি দেশের উপরে কতখানি জায়গা জুড়ে বায়ুমন্ডল আছে, সেখানে আয়তন ব্যবহার করা যেত। কিন্তু আমরা তো তা করি না। আমরা দেখি তার পৃষ্ঠদেশ কতখানি জায়গা জুড়ে আছে। পৃষ্ঠ বা তল দ্বিমত্রিক সুতরাং এখানে ক্ষেত্রফল শব্দটা ব্যবহার করাই শ্রেয়। ইংরেজিতেও তাই করে- বলে 'Area' of a country.

আয়তন শব্দটা ব্যুৎপত্তিগতভাবে ক্ষেত্রফল এর সমার্থক হলেও আমরা এরই মাঝে একে volume এর বাংলা পরিভাষার মর্যাদা দিয়েছি। আয়তনকে রেখেছি ত্রিমাত্রিক বস্তুদের জন্য। তাই এর দ্বিমাত্রিকে অধঃপতন মেনে নেয়া যায় না। 

যেহেতু এই বিষয়টার যথার্থতা নিয়ে কারও সংশয় নেই, আসুন সবাই মিলে চেঁচামেচি করে বইগুলোতে, প্রবন্ধে সব জায়গায় শব্দটা বদলে দিই। নিজেরা তো ভুল শিখেছি, পরবর্তীতে যারা শিখবে, তারা  অন্তত নিঃসংশয় থাক। চেঁচামেচি করলে যে দেশের জন্য বিশাল কোন লাভ হবে তা না, কিন্তু  অনেক মানুষ সচেতন হবে। অন্তত এইটুকু জানবে এখানে একটা ঝামেলা আছে। এটাই বা কম কিসে?

তাই আসুন বলি, বলতে থাকি , আয়তন নয় ক্ষেত্রফল...!

Posted on Friday, November 22, 2013 by Unknown

No comments

আমার খুব প্রিয় একজন মানুষের খুব প্রিয় একটি সংখ্যা হলো ৫ । .সেই থেকে ৫ আমারও খুব প্রিয় । অবশ্য আমার সব থেকে প্রিয় পূর্ণ সংখ্যা হলো ১১ । 



এটা সম্বন্ধে আবার কখনও বলা যাবে। আজ ৫ নিয়েই থাকি। ৫ সম্পর্কে আগে অল্প কিছু জানতাম, জানতাম-পিথাগোরাস বলতেন- ৫ হলো বিবাহ সংখ্যা। (পিথাগোরাস বলতেন ৩ হল নারী সংখ্যা আর ২ হলো পুরুষ । ২ আর ৩ মিলে ৫ হয়, এইজন্যেই বোধহয় ৫ কে বলতেন বিবাহ সংখ্যা !)।. তো, এটা জানার পর আমি ঠিক করেছিলাম বিয়ে করব ৫৫ বছর বয়সে, কারণ ৫ x ১১ = ৫৫ (কিন্তু তা আর হয়নি, কারন ঐ এগারোতেই আটকে গেছিলাম)

 সব জায়গায় প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসের সাথে সেটা প্রচারও করতাম। যাই হোক, সেই অবস্থান থেকে কিছুটা মনে হয় নড়বড়ে হয়েছি! আচ্ছা, এবারে ৫ এবং তার বাচ্চা-কাচ্চাদের নিয়ে কিছু বলা যাক । (১০,১৫,২০,২৫--  ৫ নিজে বাদে ৫ এর এই বাকিসব গুণীতককে আমি ৫ এর বাচ্চা বলি!)

One Day International ক্রিকেট ম্যাচে Required Run Rate হিসাব:

ধরা যাক বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের খেলা। বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৪১২ রান করল (সামান্য সুখকল্পনা) ! 

সুতরাং জিততে হলে পাকিস্তানের টার্গেট ৪১৩ রান । তাহলে Required Run Rate হবে ৪১৩ / ৫০ । .এই ভাগফলটাকে খুব দ্রুত মনে মনে হিসাব করা যায়। দেখুন, ৪১৩ x ২ = ৮২৬ । .সুতরাং উত্তর হবে ৮.২৬ । .অর্থাৎ টার্গেট রানটাকে ২ দিয়ে গুণ দাও, তারপর দশমিক ২ ঘর বামে সরিয়ে নাও, শেষ !

আবার বলি, টার্গেট যদি হয় ২৪৩ । Required Run Rate হবে ৪.৮৬ । ২৪৩ x ২ = ৪৮৬, তারপর দশমিকটা শেষ থেকে দুই ঘর বাঁয়ে সরিয়েছি।

এটা কেন হলো, তার কারণটা খুবই সোজা। ৫০ দিয়ে ভাগ করা মানেই হলো ২ দিয়ে গুণ করে ১০০ দিয়ে ভাগ করা।
ক / ৫০ = ক x ২ / ১০০ ।

এটা বুঝলে কোন সংখ্যাকে ৫ দিয়ে, ৫০০ দিয়ে, ৫০০০ দিয়ে ভাগ করাও তেমন কোন ব্যাপার না ।
৫ দিয়ে ভাগ করার সময় ২ দিয়ে গুণ করে দশমিকটাকে এক ঘর বামে সরাতে হবে ( ক / ৫ = ক x ২ / ১০ ) ।
৫০ দিয়ে ভাগ করার সময় ২ দিয়ে গুণ করে দশমিকটাকে দুই ঘর বামে সরাতে হবে ( ক / ৫০ = ক x ২ / ১০০ ) ।
৫০০ দিয়ে ভাগ করার সময় ২ দিয়ে গুণ করে দশমিকটাকে তিন ঘর বামে সরাতে হবে ( ক / ৫০০ = ক x ২ / ১০০০ ) ।

সুতরাং ১২৩৪১২৩২ / ৫ = ২৪৬৮২৪৬.৪

এবার ৫ দিয়ে গুণ:
যদি বলি ২৪৮৬ x ৫ = ? খুব দ্রুত মুখে মুখে বলতে পারবে?
এটাও আসলে কোন ব্যাপার না। অর্ধেক করে শেষে শূন্য লাগিয়ে দাও। 
অর্থাৎ ২৪৮৬ x ৫ = ১২৪৩০ । দেখ, ১২ x ৫ = ৬ ০  [১২ এর অর্ধেক ৬, তার শেষে শূন্য।]
এটা কেন হলো?  ৫ দিয়ে গূণ ক x ৫ = (ক / ২) x ১০

তাহলে, এখন তোমরা জানো, ২৩২ x ৫ = ১১৬০
কী, ২৩২ কে অর্ধেক করতে কষ্ট হচ্ছে? ছোট ছোট অংশ আলাদা করে নিন । যেমন ২ এর অর্ধেক ১, আর ৩২ এর অর্ধেক ১৬।

আবার ধরুন ৩৩২ x ৫ = ? এটা বের করার সময় ৩৩২ কে কিভাবে অর্ধেক করবেন? আমি যেটা করি তা হলো-
তিনশ এর অর্ধেক দেড়শ আর বত্রিশের অর্ধেক ষোল মোট (১৫০+১৬)=১৬৬ ।

এরই মধ্যে অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে শুরু করেছে- মূল সংখ্যাটা যদি বিজোড় হয় তখন তাকে ৫ দিয়ে কিভাবে গুণ করা হবে?

যেমনঃ ২৪৮৭ x ৫ = ? এবার তো শেষে আর ০ থাকবে না! এটাও আসলে খুব কঠিন কিছু না- এবারে মূলমন্ত্র হলো-
আগের সংখ্যাটাকে অর্ধেক করে শেষে ৫ লাগিয়ে দিন।
যেমনঃ ২৪৮৭ এর আগের সংখ্যা হলো ২৪৮৬, এর অর্ধেক ১২৪৩ ;
সুতরাং ২৪৮৭ x ৫ = ১২৪৩ ৫
এমন কেন হলো সেটাও মজার। ২৪৮৭ টা ৫ মানে হলো ২৪৮৬ টা ৫ আর একটা অতিরিক্ত ৫।
এখন ২৪৮৬ x ৫= ১২৪৩০ , সাথে আরও একটা ৫ মিলে ১২৪৩৫

কৃতজ্ঞতা সেই রিকশাওয়ালাকে- উপরে দেখানো ৫ দিয়ে গুণের নিয়মটা শিখেছিলাম কুষ্টিয়ার এক রিকশাওয়ালার কাছ থেকে। একদিন কুষ্টিয়াতে রিকশা থেকে নামব, দেখি- সেই রিকশাওয়ালা টাকার হিসাব করছে। তার কাছে কিভাবে যেন অনেকগুলো ৫ টাকার নোট জমেছে। সে গুনে দেখল ২৪ টা। এবার সে হিসাব করছে এইভাবে- ২ টা ৫ টাকায় হয় ১০ টাকা। এবার ২৪ টা ৫ টাকাকে সে দুইটা দুইটা করে ১২টা জোড়া বানিয়ে ফেলল। একটা জোড়ায় ১০ টাকা, তাহলে ১২ টা অমন ১০ টাকায় ১২০ টাকা হবে, ১০ এর হিসাব সবাই পারে। আমি তো পুরো মুগ্ধ ! ব্যস, শিখে গেলাম, আর তারপর বুঝে গেলাম ৫ দিয়ে গুণ করা যদি হয় ২ দিয়ে ভাগ করে ১০ দিয়ে গুণ, তাহলে ৫ দিয়ে ভাগ করা হবে ২ দিয়ে গুণ করে ১০ দিয়ে ভাগ! 

এভাবে ভাগটাও শিখে গেলাম। আমি অবশ্যই কৃতজ্ঞ নাম-পরিচয় না জানা সেই রিকশাওয়ালার কাছে। আপুনাদেরকে এই সুযোগে একটা কথা বলে  রাখি। জীবনে কোনদিন কাউকে বা কোনকিছুকে তুচ্ছ ভাববেন না ! প্রত্যেকটা মানুষ, প্রত্যেকটা জীব, এমনকি প্রত্যেকটা জড়বস্তুও  অসীম জ্ঞানের আধার! আপনি বড় হতে পারবেন শুধু একভাবেই, যদি আপনি অন্যদেরকে বড় করতে জানেন, বড় ভাবতে জানেন।

৫ এর মেয়ে-বাচ্চাদের বর্গ:
৫ এর বাচ্চাগুলো অর্থাৎ গুণিতকগুলো দুই ধরনের হয়। কারও বা শেষে থাকে ০, আর কারও শেষে ৫ । .যেই বাচ্চাগুলোর শেষে ৫ থাকে যেমন ১৫,২৫,৩৫,৪৫ এদের আমি বলি ৫ এর মেয়ে বাচ্চা (৫ নিজে মা তো, তাই !)।. এসব সংখ্যা বর্গ করাটা বেশ মজার। এটা আজকাল বিভিন্ন বইয়েই পাওয়া যায়। কিন্তু আমি এটা নিজে নিজেই বের করেছিলাম, কিভাবে করেছিলাম সেই গল্পটাও এবার বলব। আমি সবসময়ই মনে করি, ভ্রমণের সময় যেখানে যাচ্ছি, সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ- কোন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি, সেটাও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। আগে শেখাই নিয়মটা ।
ভালো করে দেখ-

   ৫ এর বর্গ -    ২৫
১ ৫ এর বর্গ-   ২ ২৫  -----> (১ x ২ = ২ )
২ ৫ এর বর্গ-   ৬ ২৫  -----> (২ x ৩ = ৬ )
৩ ৫ এর বর্গ-  ১২ ২৫  -----> (৩ x ৪ = ১২ )
৪ ৫ এর বর্গ-  ২০ ২৫  -----> (৪ x ৫ = ২০ )
৫ ৫ এর বর্গ-  ৩০ ২৫  -----> (৫ x ৬ = ৩০ )
৬ ৫ এর বর্গ-  ৪২ ২৫  -----> (৬ x ৭ =  ৪২ )

এটা কি বুঝতে পারছ যে, কোন সংখ্যার শেষে ৫ থাকলে তার বর্গের শেষে সবসময় ২৫ থাকে ? তাহলে ৩৫ এর ক্ষেত্রে শেষের ৫ এর জন্য হলো ২৫। .তার মানে ৩ এর জন্য হয়েছে সামনের ১২। .কিন্তু ৩ এর থেকে ১২ কিভাবে পাওয়া যাবে? এটা হলো (৩ x ৩ এর পরের সংখ্যা)।  দেখ ৩ x ৪ =১২ ।

এবার তাহলে ৬৫ এর দিকে তাকান। ৫ এর জন্য বর্গের শেষে হবে ২৫। .আর সামনে ৬ x ৭ = ৪২ । .তো শেষ! ৬৫ এর বর্গ ৪২২৫। .এখন কি বলতে পারবে ৮৫ এর বর্গ কত? যদি বুঝে থাকেন, আপনার উত্তর হবে  ৭২ ২৫ ।

এটার গাণিতিক প্রমাণটাও সোজা। পৃথিবীর যেকোন সংখ্যা যাদের শেষে ৫ আছে তাদেরকে লেখা যায়  ( ১০ক + ৫ ) আকারে। যেমন ৬৫ = ১০ x ৬ + ৫ ,  ২৩৪৫ = ১০ x ২৩৪ + ৫ ।. এখন,
(১০ক + ৫)^২ = ১০০ ক^২ + ২ x ১০ক x ৫+ ৫ ^২
                  = ১০০ ক^২ +  ১০০ ক + ২৫
                  = ক (ক+১) x ১০০ + ২৫  ,
এখানে ক (ক+১)  থাকার কারণেই নিয়মটা অমন হয়েছে- পরের সংখ্যা দিয়ে গুণ দাও! আর ১০০ দিয়ে গুণ দিয়ে ২৫ যোগ করার মানে শেষে ২৫ বসিয়ে দাও!

আমি যেভাবে এটা জানলাম তার কাহিনী:
আমি একদিন ভাবছিলাম, দুইটা সংখ্যার যোগফল ১২ হলে তাদেরকে গুণ করে সর্বোচ্চ কত বানানো যেতে পারে? দেখলাম, এটা হলো ৩৬ ।

গুণফল সবচেয়ে বেশি হবে যখন সংখ্যা দুইটা সমান, দুইটাই ৬ । .আমি যদি ৫ আর ৭ নিয়ে ভাবি এদেরকে, যোগ করলেও ১২ হয়, কিন্তু গুণ করলে হয় ৩৫। .আগের চেয়ে কম। ৪ আর ৮ নিলে হয় ৩২ আরও কম।

৬ আর ৬ যোগ করলে হয় ১২, গুণ করলে  ৩৬
৫ আর ৭ যোগ করলে হয় ১২, গুণ করলে  ৩৫
৪ আর ৮ যোগ করলে হয় ১২, গুণ করলে  ৩২
৩ আর ৯ যোগ করলে হয় ১২, গুণ করলে  ২৭

আর গিয়ে কী হবে, বুঝে গেছি এরপর আরও কমবে। এবার আরেকটা সংখ্যা নিয়ে ভাবতে গেলাম, দেখি, আমার ধারণা ঠিক কিনা। যোগফল ৩২ হলে তখন কী হবে? দেখলাম,

১৬ আর ১৬ যোগ করলে হয় ৩২, গুণ করলে  ২৫৬
১৫ আর ১৭ যোগ করলে হয় ৩২, গুণ করলে  ২৫৫

এবার আমার হঠাৎ খটকা লাগল- আমি বুঝলাম ২৫৬ এর চেয়ে বেশি হবে না, এরপর আগের মতই কমবে। কিন্তু যেটাতে খটকা লাগল তা হলো ১৫ আর ১৭ এর গুণফল ২৫৫, যা ২৫৬ এর চেয়ে এক কম। আগেরবার ৫ আর ৭ এর গুণফল ছিল ৩৫, যা ৩৬ এর এক কম।

আমি দেখলাম, ১৫ এর বর্গ হলো- ২২৫। আর ১৪ x ১৬ = ২২৪ ----> ২২৫ এর চেয়ে এক কম ! ১৮ এর বর্গ হলো ৩২৪ । আর ১৭ x ১৯ = ৩২৩   -----> ৩২৩ এর চেয়ে এক কম ! তার মানে, ১৮ এর আগেরটা আর পরেরটা গুণ করলে ১৮ এর বর্গের চেয়ে এক কম হবে! অর্থাৎ যেকোন দুই difference এর সংখ্যার গুণফল হবে মাঝখানেরটার বর্গের এক কম।

২৪ আর ২৬ গুণ করলে হবে ২৫ এর বর্গ বিয়োগ ১, মানে ৬২৫ - ১ = ৬২৪ . আমি খুশি হয়ে গেলাম, যেহেতু একটু একটু বর্গ করতে পারি, তাহলে এবার বড় বড় গুনও করা যাবে। কিন্তু মাথায় প্রশ্ন আসল এমন কেন হলো? তারপর দেখলাম, কারণটা মহা সোজা। ছোটবেলার সূত্র: (a+b)(a-b) = a^2 - b^2

২৪ x ২৬ = (২৫ - ১) (২৫ + ১) = ২৫^২ - ১
তারপর মনে হলো, তাহলে তো এখন আমি আরও গুণ করতে পারি- যেমন ২৪৮ x ২৫২ দেখে ধুম করে বলে দিতে পারি এটা হবে ৬২৪৯৬ ।
কারণ- ২৪৮ x ২৫২ = (২৫০ - ২) (২৫০ + ২) = ২৫০^২- ২^২= ৬২৫০০ -  ৪ = ৬২৪৯৬

বর্গ করতে পারলে বড় বড় গুণ করা যায়, এটা আমাকে চরম আনন্দ দিচ্ছিল । আমি অনেক সংখ্যা মুখে মুখে গুণ করতে পারছিলাম। হঠাৎ-ই আবার দুষ্টু বুদ্ধি চাপল- আচ্ছা, বর্গ জানা থাকলে যদি গুণ করা যায়, গুণফল জানা থাকলে বর্গ করা যায় না?

যেমন ৩০ x ৪০ এই গুণফলটা আমরা সহজেই জানি। এখান থেকে কিছু করা যায় না? এবং এটা ভাবতে গিয়েই আমি বুঝে ফেললাম শেষে ৫ থাকলে কিভাবে বর্গ করতে হয়। দেখ-

   ৩০ x ৪০ = (৩৫ + ৫) (৩৫ - ৫)
বা, ৩০ x ৪০ = ৩৫^২ - ২৫
বা,  ৩৫^২= ৩০ x ৪০ + ২৫

৩৫ হলো ৩০ আর ৪০ এর মাঝামাঝি, তাই ৩৫ এর বর্গ  ৩০ x ৪০ + ২৫ ।
এভাবে, ৬৫ হলো ৬০ আর ৭০ এর মাঝামাঝি, তাই  ৬৫ এর বর্গ ৬০ x ৭০ + ২৫ = ৪২০০ + ২৫ = ৪২ ২৫।

আআহ! এভাবেই আমি এই মজার জিনিসটা শিখে গেলাম। পরে একদিন মনে হচ্ছিল, এই সহজ ব্যাপারটাকে এত ঘুরিয়ে শিখলাম কেন, যেসব সংখ্যার শেষে ৫ আছে , তাদেরকে নিয়ে বর্গ করে পর্যবেক্ষণ করলেই তো হত ! কিন্তু তখনই বুঝলাম এই চিন্তার ভুলটা! শেষে ৫ থাকলে সেগুলো থেকে একটা প্যাটার্ন আসবেই, এটা আমি আগে থেকে কিভাবে জানব ? আরেকটা দর্শনে আমি বিশ্বাস করি, যেই পথে আগে কয়েকবার গিয়েছি, সময় ও সুযোগ থাকলে আমি সেই চেনা পথ এড়িয়ে নতুন পথে যেতে চাই। আর যদি পুরনো পথেই যেতে হয়, তাহলে আগের থেকে আরও গভীরভাবে দেখতে দেখতে যেতে হবে। এমন না যে আমি অনেক কিছু জানি । তবে এটা নিশ্চিত যে, শেখার জন্য এই ধারণাটা খুব খারাপ না।

যাহোক, প্রিয় পাঁচ! আপাতত এটুকুই, ভালো থেকো তোমার বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে।

Posted on Friday, November 22, 2013 by Unknown

No comments

১১ সংখ্যাটার দিকে তাকালেই আমার কেন যেন মনে হয়, দুজন একলা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে পাশাপাশি, অনন্তকালের জন্য। দুজন কিন্তু মুখোমুখি তাকিয়ে নেই- কিসের যেন অভিমান তাদের মাঝে, তবু ভালোবাসার আবেশেই তারা রয়ে গেছে পাশাপাশি...! ১১ সংখ্যাটাকে অসম্ভব ভালো লাগত অনেকদিন থেকেই।



 কিন্তু এটা আমার সবচেয়ে প্রিয় সংখ্যা এটা ঘোষণা দেওয়া হয় নি কখনও। আমার খুব কাছের বন্ধু তন্ময় যখন ঘোষণাটা দিয়েই ফেলল যে তার সবচেয়ে প্রিয় সংখ্যা ১১, তখন মনে হলো ওর চেয়ে আমার আসলে গাণিতিক অধিকার বেশি! তাই আমিও প্রচার করে দিলাম ১১ আমারও সবচেয়ে প্রিয়পূর্ণসংখ্যা। এখানে বলে রাখি, সব সংখ্যার মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় হলো পাই। পাইকে নিয়েও গল্প হবে, লিখতে যখন শুরু করেছি, সবার কথাই বলব ধীরে ধীরে।

কেন ভালবাসি ১১ কে?

ক) ১১ একটি মৌলিক সংখ্যা।
খ) ১১ খাঁটি বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে!
গ) ১১ দিয়ে যেকোন সংখ্যাকে সহজেই গুণ করা যায়,
ঘ) ১১ দিয়ে ভাগ করলে দারুন একটা প্যাটার্ন পাওয়া যায়,
ঙ) ১১ দিয়ে বিভাজ্যতার নিয়মটা বেশ মজার,
চ) ১১ দিয়ে মজার সব খেলা দেখানো যায়,
ছ) ১১ এর সূচকগুলো প্যাসকেলের ত্রিভুজ মেনে চলে...
জ) ১১ তে আমি আমার আপন মানুষকে আরো আপন করে পেয়েছিলাম... :p

এমন আরও চমৎকার সব বৈশিষ্ট্য আছে ১১ সংখ্যাটির । তাই বলে তুমি যদি ভাবো, এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য ১১ কে ভালোবাসি, ভুল ভাবছ। ভালোবাসার জন্য বড় কারণ থাকতে হয় না, ভালোবাসার তাগিদেই ভালোবেসে যাওয়া যায়।ভালোবাসার পরিমাপ যতখানি যোগ্যতায় তার চেয়ে বেশি অনুভূতির তীব্রতায়। এই গুণগুলো হয়তো ভালোবাসাকে প্রেরণা জুগিয়ে যায়...।

যাহোক, ১১ এর সব কথা তো আমিও জানি না। যে ক'টা জানি, তার কয়েকটা এবারে বলে ফেলি।

ক) ১১ একটি মৌলিক সংখ্যা- মৌলিক সংখ্যাগুলোর সৌন্দর্যে মোহিত হন নি এমন গণিতবিদ পৃথিবীতে মনে হয় খুব কমই আছে। ১১ হলো পৃথিবীর ৫ নম্বর মৌলিক সংখ্যা (৫ সংখ্যাটাও দারুণ, এটা নিয়ে আগের নোটে বলেছি)।

খ) ১১ খাঁটি বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে! একদিন ক্যালকুলেটরে ইচ্ছেমতো একটা সংখ্যাকে আরেকটা সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে ভাগফলের দশমিকের পরের অংশটার দিকে তাকিয়ে থাকতে আমার খুব ভালো লাগত। তো একদিন দেখি দশমিকের পর ০৯০৯০৯... এই রকম এসেছে। দেখে মজা লাগল, কারণ এটাকে পড়া যায় 'শূন্য নয়, শূন্য নয়, শূন্য নয়...' এভাবে। লক্ষ করলাম, ১ কে ১১ দিয়ে ভাগ দিলে এমন পাওয়া যায়। তখন বানিয়ে ফেললাম আমার 'সত্যবাদী সংখ্যা'। .বলো দেখি ১ কে ১১ দিয়ে ভাগ দিলে এটা কি কখনও শূন্য হবে, অবশ্যই না, কখনই না। ভাগফলও এই কথাটাই বলে,
১/১১= ০.০৯০৯০৯০৯... সে সারাজীবন বলতে থাকে এটা কিন্তু শূন্য নয়, শূন্য নয়, শূন্য নয়...

এটা ছিল আমার প্রথম কথা বলা সংখ্যা। দ্বিতীয়টার আবিষ্কার হঠাৎ করেই। সেটা ছিল সম্ভবত চতুর্থ গণিত ক্যাম্প। হয়েছিল মোহাম্মদপুরে। আমাকে বিনোদন গণিতের উপর একটা ক্লাস নিতে বলা হলো। আমি কথা বলা সংখ্যা পড়াচ্ছি, সত্যবাদী সংখ্যার কথা বলে ফেলেছি।

তখন মাথায় আসল, আমি যদি ২ কে ১১ দিয়ে ভাগ করি- কী পাব? দেখলাম ০.১৮১৮১৮১৮... এক আট,এক আট, এক আট... একটু জোরে পড়তে গিয়ে খেলে গেল দুষ্টুমি। বের হয়ে গেল বাংলা ভাষার সবচেয়ে লোভী সংখ্যা। জোরে জোরে পড়লে শোনাবে এমন... শূন্য দশমিক একআটএকাট্যাকাট্যাকা ট্যাকা ট্যাকা।

গ) ১১ দিয়ে কোন সংখ্যাকে গুণ করা খুবই সোজা। প্রথমে দুইক অঙ্কের সংখ্যার কথা বলি। আস্তে আস্তে আরও বড় সংখ্যার জন্য বলা যাবে। আগে ভালো করে তাকাও, নিজেই বুঝে যাবে অনেক কিছু, বাকিটা আমি বুঝিয়ে দেব।
১১ x ২৩= ২৫৩
১১ x ৫৪= ৫৯৪
১১ x ৭২= ৭৯২

একটু ভালো করে তাকালেই দেখতে পাবে , আমি যা করেছি তা খুব সোজা, দুই অঙ্কের যেই সংখ্যার সাথে ১১ কে গুণ করবে, সেটাকে ভেঙ্গে আলাদা কর, তারপর মাঝখানে অঙ্ক দুইটার যোগফল বসিয়ে দাও। যেমন ৫৪ এর ক্ষেত্রে দুইপাশে ৫ আর ৪ লিখে মাঝে এদের যোগফল ৯ বসিয়ে দাও, শেষ !

এখন একটু ঝামেলায় পড়বে যদি অঙ্ক দুইটার যোগফল ১০ এর বেশি হয়। এটার জন্য শুধু মনে রাখবে, মাঝের ঘরে জায়গা আছে শুধু একটা। হাতে যা থাকবে তা বামের ঘরে চলে যাবে। বুঝিয়ে দেই? ধর- ১১ x ৮৫ বের করবে। এখন ৮ আর ৫ কে আলাদা করে লিখলে, ভালো কথা। মাঝে কত হবে। ৮ আর ৫ যোগ করলে তো হয় ১৩, কিন্তু মাঝে ঘর আছে একটা ।

(৮+১)  ৩   ৫ ,
তাই ১৩ এর ৩ মাঝের ঘরে থাকবে আর হাতের এক বামের ৮ এর সাথে গিয়ে হবে ৯। .উত্তর ৯৩৫। .এভাবে ১১ x ৬৮= (৬+১)  ৪  ৮= ৭৪৮ ,  ১১ x ৯৮= (৯+১) ৭  ৮= ১০৭৮।

কেন এমন হলো সেটা বোঝাটাও খুব সোজা। ছোটবেলায় উপরে নিচে লিখে লিখে আমরা খুব সহজে যে গুণ করতাম সেটা দেখলেই বোঝা যাবে এটা। নিচে ১১ রেখ, তাহলে সহজে বুঝবে। যেমনঃ
  ৭ ২
X ১ ১
------
  ৭ ২
৭  ২ X
------
৭ ৯ ২,  ভালো করে মাঝের ঘরটা দেখ, ৭ আর ২ কত আনন্দ নিয়ে যোগ হয়ে গেছে! অঙ্ক দুটোর যোগফল ১০ এর বেশি হলে কেন অমন ঝামেলা হয়, সেতাও এভাবে গুণ করে সহজেই বোঝা যায়। আচ্ছা, যার সাথে ১১ কে গুণ করছি সেটা যদি দুই অঙ্কের চেয়ে বড় হয়? তখন ‘লাফাইন্যা পদ্ধতি’ ব্যবহার করে সহজেই গুণ করা যাবে। এটা আবার কেমন সেটা উদাহরণ দিয়ে বলি। ২৩৪১৬ x ১১ = ? এর উত্তর হলো ২৫৭৫৭৬ । .কিভাবে হলো? প্রথমে প্রথমটা অর্থাৎ ২ নাও। এরপর দুটো করে নিয়ে নিয়ে যোগ করতে থাকো যেমন ২ আর ৩ এ ৫, ৩ আর ৪ এ ৭, ৪ আর ১ এ ৫, ১ আর ৬ এ ৭ আর শেষে শেষেরটা মানে ৬ , শেষ? এটাও পাওয়া যায় বাচ্চাদের মতো গুণ করে। আর যদি মাঝে কোন দুইটা যোগ করে ১০ এর বড় হয়ে যায়? আগের মতো বামের ঘরে নিয়ে যাবে!

ঘ) ভালো করে দেখ তো কোন নামতা নামতা গন্ধ পাও কিনা?
১/১১= ০. ০৯ ০৯ ০৯ ০৯ ০৯... ...
২/১১= ০. ১৮ ১৮ ১৮ ১৮ ১৮... ...
৩/১১= ০. ২৭ ২৭ ২৭ ২৭ ২৭... ...
৪/১১= ০. ৩৬ ৩৬ ৩৬ ৩৬ ৩৬... ...,
সবাই আশা করি বুঝে গেছ, ভাগফলের ভিতরে ৯ এর নামতা আছে। তাহলে ধারণা কর তো ৮/১১ কত? হুম, আট নং বাহাত্তুর। সুতরাং এটা হবে, ০. ৭২ ৭২ ৭২ ৭২ ৭২... ...

পৃথিবীর যেকোন সংখ্যাকে ১১ দিয়ে ভাগ করলে হয় সেটা নিঃশেষে বিভাজ্য হবে, নয়তো দশমিকের পরে ঠিক এই ৯ এর নামতাই আসবে। ভাগশেষ যা হবে, তাকে ৯ দিয়ে গুণ করলেই দশমিকের পর অনন্তকাল কি কি আসবে সব বলে দেয়া যাবে (ভাগশেষ ৬ হলে .৫৪ ৫৪ ৫৪ ৫৪... ... এমন)। .এমন কেন হল, সেটা বুঝবে যদি ৯৯ কে ঠিকঠাক চিনতে পার ! দুই অঙ্কের যেকোন সংখ্যাকেই যদি ৯৯ দিয়ে ভাগ করা হয়,ঐ দুটো সংখ্যাই বারবার আসে। যেমনঃ

২৩/৯৯=০.২৩ ২৩ ২৩ ২৩ ২৩... ...
৫৭/৯৯=০. ৫৭ ৫৭ ৫৭ ৫৭ ৫৭... ... , দারুণ , তাই না?
এটা কেন হয়, সেটা সামান্য অঙ্ক কষে বলা যায়। ধর দশমিকের পর শুধু এমন প আর ফ , পফ বারবার আসছে। ভগ্নাংশ আকারে লিখলে ওটাকে দেখতে কেমন লাগবে, সেটা দেখতে চাই। ধরা যাক ঐ সংখ্যাটার নাম ক।
ক = ০. পফ পফ পফ পফ পফ... ... এটাকে দুইপাশে ১০০ দিয়ে গুণ করলে পাব,
১০০ক = পফ . পফ পফ পফ পফ ... ... এই ১০০ক থেকে একটা ক বাদ দিলে হবে,
(-)ক =   ০. পফ পফ পফ পফ ... ...
---------------------------------
 ৯৯ ক = পফ
ক=পফ/৯৯ । .এটার মানেই হলো যেকোন দুই অঙ্কের সংখ্যাকে ৯৯ দিয়ে ভাগ করলে ঐ সংখ্যাটাই বারবার আসবে।
এখন মনে আছে, আমি বলেছিলাম ৪/১১= ০. ৩৬ ৩৬ ৩৬ ৩৬... ... এবারে এটার মাহাত্ম্য তোমরা বুঝবে। ৪/১১= (৪ x ৯)/(১১ x ৯)= ৩৬/৯৯ । .ভগ্নাংশের উপরে নিচে একই সংখ্যা দিয়ে গুণ তো করাই যায়। আর ৩৬/৯৯ আর কতই বা হবে, নিচে ৯৯ থাকলে যা হয়!      . ৩৬ ৩৬ ৩৬ ৩৬... ...

 ঙ) একটা সংখ্যা ১১ দিয়ে ভাগ যায় কিনা, সেটা বোঝার উপায়টা বেশ মজার। ২২, ৩৩,৪৪ এরা যে ১১ দিয়ে বিভাজ্য, সেটা তো আমিই বুঝতে পারি! কিন্তু অনেক বড় সংখ্যা হলে। আমি যেমন আরেকটা বুঝতে পারি, যদি সংখ্যাটা জোড় ঘর বিশিষ্ট হয় (৪ অঙ্ক বিশিষ্ট , ৬ অঙ্ক বিশিষ্ট এমন)  এবং যদি ওটাকে উলটা করে লিখলে একই থাকে, সেটাও ১১ দিয়ে বিভাজ্য। যেমনঃ ৩৭৮৮৭৩, ২৬৮০০৮৬২ এরা ১১ দিয়ে বিভাজ্য। এবার একটা সার্বজনীন নিয়ম। যেই সংখ্যাটাকে পরীক্ষা করতে চাই, সেটার জোড় স্থানের অঙ্কগুলো একবার যোগ কর আর বিজোড় স্থানের অঙ্কগুলো একবার যোগ কর। যেমন ধরা যাক ৭১৮০৯১। 

একটা করে পরপর নিয়ে নিয়ে যোগ কর। ১+০+১=২।
আর বাকি গুলো যোগ করলে হয় ৭+৮+৯=২৪।
এখন এদের বিয়োগফল যদি ১১ দিয়ে বিভাজ্য হয়, তাহলে পুরো সংখ্যাটাই ১১ দিয়ে বিভাজ্য। এখানে এদের বিয়োগফল ২৪-২=২২, যা ১১ দিয়ে বিভাজ্য। তাহলে পুরো সংখ্যাটাও ১১ দিয়ে বিভাজ্য হবে।

আরেকটা উদাহরণ দেখলে নিয়মটা পরিষ্কার হবে। ২৯৬৭৩৮১৪৫ সংখ্যাটা ১১ দিয়ে বিভাজ্য কিনা পরীক্ষা করতে চাই। এখন ২+৬+৩+১+৫=১৭, আর ৯+৭+৮+৪=২৮। 

এদের বিয়োগফল ১১, যা ১১ দিয়ে বিভাজ্য। সুতরাং এই বড় সংখ্যাটাও ১১ দিয়ে বিভাজ্য।এটা কেন হয়, সেটা বোঝাব অন্য একটা নোটে (এই পোস্টে আর জায়গা নাই)

চ) একটা খেলা দেখানো যাক। প্লিজ একটা খাতা কলম নাও, প্লিজ !

১. তিন অঙ্কের যেকোন একটা সংখ্যা নাও, যার তিনটা অঙ্ক আলাদা আলাদা। ০ কে নিও না। (১৫৪, ৭৮৯ এমন যেকোন কিছু হতে পারে , কিন্তু ২২৩, ৯০৩ এমন কিছু নিও না)।

২. তিনটা অঙ্কের যোগফল নাও। একে দুই দিয়ে গুণ কর। যা পেয়েছ সেটাকে খাতার কোণায় ছোট একটা চারকোণা বাক্স এঁকে তার মধ্যে লিখে রাখ।

৩. এই তিনটা অঙ্ক দিয়ে দুই অঙ্ক বিশিষ্ট যতগুলো সংখ্যা বানানো যায় সব বানাও (একই অঙ্ক দুবার ব্যবহার করো না!),  মোট ৬ টা এমন সংখ্যা পাবে। বুঝিয়ে দিই। ধর তুমি ১৫৪ ধরেছ। সেক্ষেত্রে তুমি বানাতে পারবে ১৫,৫১,১৪,৪১,৫৪,৪৫ এই ছটি সংখ্যা।

৪. এই ছ’টা সংখ্যা যোগ কর। (এদেরকে যোগ করতে কষ্ট পেও না, এরা খুবই ছোট সংখ্যা, মুখে মুখে বা খাতায় লিখে খুবই দ্রুত যোগ করে ফেলতে পারবে)।

৫. এই যোগফলকে একটু আগে খাতার কোণায় বাক্সে যে সংখ্যাটা লিখে রেখেছ সেটা দিয়ে ভাগ দাও।

আমি জানি আপনার উত্তর কত এবং আমি এও জানি আপনি বুঝতে পেরেছেন যে আমি আসলেই জানি, তাকে নিয়েই তো আজকের এই আয়োজন!

Posted on Friday, November 22, 2013 by Unknown

No comments